বৃত্তি পেতে সুন্দর হস্তাক্ষর, নির্ভুল বানান ও সঠিক তথ্য জানতে হবে

বৃত্তি

📝ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, ঢাকা📝
তারিখ:১৩/০৪/২০২৬

আসসালামু আলাইকুম।

✍️বৃত্তি পেতে সুন্দর হস্তাক্ষর, নির্ভুল বানান ও সঠিক তথ্য জানতে হবে ✍️

১৫ এপ্রিল’২৬ শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণীর সোনার টুকরাদের কাঙ্খিত বৃত্তি পরীক্ষা। স্বল্প সময়ের নোটিসে হলেও এই কাঙ্খিত পরীক্ষার ঘোষণা ছোট্ট সোনার টুকরাদের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। একে আমরা সাধুবাদ জানাই।

ষষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’২৫ এর জন্য রেজিস্ট্রেশনকৃত সোনামানিকের টুকরাদের অনেকেরই পুরাতন বই সংরক্ষণে না থাকায় তা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সিলেবাসসহ যাবতীয় বিষয় বুঝে উঠতে কিছুটা কালক্ষেপণের পর আশা করি তারা এখন অনেকটাই প্রস্তুত।
যা হোক, বৃত্তি পরীক্ষায় সফলতা অর্জন করতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি:

পরীক্ষার বাইরে পালনীয় বিষয়সমূহ:

১। স্বাস্থ্যবিধি:
গোসল, খাওয়া, ঘুম, বিশ্রাম ইত্যাদির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। যেন অনিয়ম আর অতিরিক্ত চাপে সোনার টুকরা অসুস্থ না হয়ে পড়ে।

২। মন মেজাজ ঠিক রাখা, রাগ পরিহার করা:
শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ও মন-মেজাজ ভালো থাকলে এবং সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকলে লেখাপড়ার প্রতি মনোনিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকবে ইনশাআল্লাহ্। শিক্ষার্থীর সাথে কোনভাবেই রাগারাগি করা যাবে না এবং শিক্ষার্থীর নিজেকেও রাগ পরিহার করতে হবে।

৩। মূল পাঠ্য বইয়ের আগাগোড়া আয়ত্ত করা:
সঠিক তথ্য ও নির্ভুল বানানসহ সম্পূর্ণ বইয়ের উপর ধারনা থাকতে হবে। মূল পাঠ্যবই থেকে বাবা-মা অথবা অন্য কেউ তথ্যগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন আর শিক্ষার্থী উত্তর দিবে। কঠিন বানান ও তথ্যগুলো লেখার প্র্যাকটিস করতে হবে। এভাবে করলে শিক্ষার্থী দ্রুত পাঠ্যবই শেষ করতে পারবে।

৪। গণিত মুখস্থ না করে বুঝে বুঝে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা:
জ্যামিতির সংজ্ঞাগুলো ভালো করে আয়ত্ত করতে হবে। প্রতিটি অংক মুখস্ত না করে বুঝে বুঝে সমাধান করতে হবে। যাতে একই নিয়মের যে কোন অংক করা সম্ভব হয়।

৫। বিজ্ঞানে ছবির গুরুত্ব:
বিজ্ঞান বইয়ের প্রশ্নের সাথে সংশ্লিষ্ট ছবিগুলো (যেমন: তৃতীয় অধ্যায়ের সর্বশেষ ছবি স্থাপন প্রক্রিয়া ইত্যাদি) আঁকার প্র্যাকটিস করতে হবে।

৬। পরীক্ষা-কেন্দ্রে গমন:
প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি- পেন্সিল, কলম, ইরেজার, সার্পনার, জ্যামিতিবক্স ইত্যাদি নিয়ে প্রথম দিনে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৪০ মিনিট পূর্বে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। এরপর প্রতিদিন ২০-২৫ মিনিট পূর্বে গেলেই চলবে। প্রবেশপত্রে কেন্দ্রের নাম দেয়া আছে। সম্ভব হলে আগের দিন বিকেলে বাবা-মায়ের সাথে কেন্দ্র পরিদর্শন করে আসা যেতে পারে।

৭। টেনশনমুক্ত থাকা, ভয় ও অস্থিরতা পরিহার করা:
আমার মনে হয় পরীক্ষায় ভালো করার জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুশ্চিন্তা, ভয় ও টেনশন মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। মনে মনে সংকল্প করতে হবে, “ইনশাআল্লাহ পরীক্ষা ভালো হবে” । যেকোন ধরনের টেনশন ও অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পালনীয়

১। আসন গ্রহণ:
নিজের আসন খুঁজে নিয়ে তথায় শান্তভাবে বসে থাকা। কোন ধরনের অস্থিরতা প্রদর্শন না করা।

২। খাতা গ্রহণ:
পরিদর্শক মহোদয় পরীক্ষার খাতা বিতরণের সময় দাঁড়িয়ে ভদ্রতার সাথে ডান হাতে খাতা গ্রহণ করা।

৩। খাতার কভার পেজ পূরণ:
খাতার কভার পেজে নিজের নাম, রোল নম্বর, বিষয়, বিষয়কোড ইত্যাদি সঠিকভাবে প্রবেশপত্র দেখে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লিখে ফেলা।

৪। খাতার প্রতিটি পৃষ্ঠায় মার্জিন টানা:
সময় থাকলে স্কেল ও পেন্সিল দিয়ে খাতার বাম সাইডে এক ইঞ্চি এবং উপরে দেড় ইঞ্চি ফাঁকা রেখে মার্জিন টেনে ফেলা।

৫। প্রশ্নপত্র গ্রহণ:
কক্ষপরিদর্শক মহোদয় প্রশ্নপত্র বিতরণ শুরু করলে দাঁড়িয়ে আদবের সাথে ডান হাতে প্রশ্নপত্র গ্রহণ করতে হবে।

৬। প্রশ্নপত্রে নজর বুলানো:
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর দ্রুত আগা-গোড়া পড়ে ফেলতে হবে। যে প্রশ্নগুলো কমন পড়েছে, একটি করে টিক চিহ্ন দিবে। পরে যে প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়ে যাবে তাতে ডাবল টিক চিহ্ন দেবে।

৭। মার্জিনের ভেতরে প্রশ্নের নাম্বার দেয়া:
প্রশ্নের নাম্বার না দিয়ে উত্তর লেখা শুরু করবে না।
উত্তরের শুরুতে-

১ নং প্রঃ উঃ

এভাবে আন্ডারলাইন করে প্রশ্নের নাম্বার লিখবে।
ক খ, i ii ইত্যাদি সাব নাম্বার থাকলে মার্জিনের কাছাকাছি তা লিখে ফেলবে।

৮। কমন প্রশ্নগুলো আগে উত্তর করা:
যে প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে শেখা আছে তার উত্তর আগে লিখতে হবে। পরে ক্রমান্বয়ে অন্যগুলোর উত্তর করতে হবে। তবে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে (প্রশ্নের নির্দেশনা মোতাবেক) সবগুলো প্রশ্নের উত্তর করতে পারলে বেশি ভালো।

৯। ১০০% উত্তর করা:
অবশ্যই (প্রশ্নপত্রের চাহিদা মোতাবেক) প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। কমন না পড়লেও নিজের বুদ্ধি থেকে যথাযথ উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। অন্যের সহযোগিতায় ভুল উত্তর দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

১০। পরীক্ষার খাতা রিভিশন:
সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পর সময় থাকলে প্রশ্নের সাথে মিলিয়ে মিলিয়ে খাতা রিভিশন দেবে।
ভুল হলে (ঘষাঘষি না করে) এক টানে কেটে শুদ্ধ উত্তর লিখে দেবে।

১১। অতিরিক্ত কাগজ গ্রহণ:
লুজ শিট (অতিরিক্ত কাগজ) নিলে তার কোণে পাতা নম্বর দেবে। যাতে একাধিক লুজ শিট সেলাই করার সময় সিরিয়াল করা যায়।

১২। খাতা জমা দান:
পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা পড়ার পর কক্ষ পরিদর্শক মহোদয় সামনে আসার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে আদবের সাথে ডান হাতে খাতা ফেরত দেবে।

১৩। কেন্দ্র থেকে প্রস্থান: পরীক্ষাশেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় তাড়াহুড়া ও দৌড়াদৌড়ি না করে ধীরস্থিরভাবে শৃঙ্খলার সাথে বের হতে হবে। গেটে অপেক্ষমান সম্মানিত অভিভাবকের সাথে বাসায় ফিরতে হবে। অভিভাবককে না পেলে অস্থির হবে না। অপেক্ষা করতে থাকবে। প্রয়োজনে কর্মরত শিক্ষকদের (ফোনের) সহযোগিতা নেবে।

১৪। আগামী দিনের ভাবনা:
অতীত পরীক্ষার ভাবনা বাদ দিয়ে আগামী দিনের রুটিন মোতাবেক প্রস্তুতি শুরু করে দেবে।

১৫। আল্লাহর উপর ভরসা রাখবে:
মহান আল্লাহই পারেন তোমাকে বৃত্তি পাইয়ে দিতে।প্রার্থনা করবে, যেন তিনি তোমাকে বৃত্তি পাওয়ার তৌফিক দেন।

@ আমার ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি:
আমি নিজে ১৯৭৪ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় নাটোর থানায় প্রথম হয়ে বৃত্তি পেয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ। আমি জানি বৃত্তি পাওয়ার কী আনন্দ। আমার মনে পড়ে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত শেষে আল্লাহর কাছে চাইতাম “হে আল্লাহ আমাকে বৃত্তি পাইয়ে দাও”।

মহান আল্লাহ সবাইকে সুস্থ রাখুন, সব ধরনের বিপদ-আপদ ও মসিবত থেকে হেফাজত করুন, ভালো ফলাফল ও বৃত্তি পাওয়ার পাশাপাশি সবাইকে ভালো মানুষ, বাবা-মা ও সকলের প্রিয় মানুষ হওয়ার তৌফিক দিন। আমিন।

ধন্যবাদান্তে
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
প্রধান শিক্ষক,
ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, ঢাকা।